সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাষ্ট্র গণমাধ্যমের সহযোগী অংশীদার হতে চায় তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৬, ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

রাষ্ট্র গণমাধ্যমের সহযোগী অংশীদার হতে চায় তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকা

অতীতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী যুগে রাষ্ট্র গণমাধ্যমের দিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বললেও বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রকৃত সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এই যৌথ সভার আয়োজন করে।ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানে ইংরেজি চতুর্থ সংশোধনী অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনাকে হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। সেদিনের স্বৈরাচারী শাসকরা বুঝতে পেরেছিল যে জনগণের কণ্ঠস্বর ও ক্ষোভ রোধ করতে গণমাধ্যমকে গলা টিপে হত্যা করতে হবে, নতুবা তারা রক্ষা পাবে না। 

সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তারা সংবাদপত্রের কণ্ঠস্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা করেছিল। অতীতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের ভাইরাসের জীবনী আমাদের ভালো করে পাঠ করা দরকার যা আমাদের মনের অজান্তে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে।তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান চরিত্র তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ৫০ বছর আগে কেবল ছাপার অক্ষরের গণমাধ্যম ছিল। 

কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ঘরে বসেই প্রতিনিয়ত সত্য কিংবা বিকৃত তথ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই প্রযুক্তিগত সংকটের নতুন চেহারা আমাদের অনুধাবন ও সমাধান করতে হবে। এর বাইরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নাগরিক সাংবাদিকতার বাস্তবতাকে অস্বীকারের সুযোগ নেই, বরং একে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে যার জন্য ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন আইন প্রণয়ন করেছে।

মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে গণমাধ্যম নিজেকে শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করবে, তাকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে এবং কর্মচারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে মুনাফাভিত্তিক শিল্পের বাইরে যেসব গণমাধ্যম কেবল জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকবে, তাদের রাষ্ট্র বিশেষ প্রণোদনা ও সহযোগিতা দেবে। সরকার ইতোমধ্যেই সম্পাদক পরিষদ ও টেলিভিশন অ্যাসোসিয়েশনসহ সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে এবং খুব শীঘ্রই আধা-বিচারিক ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। এছাড়া আলোচনা সভায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।