বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বগুড়ার দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

বগুড়ার দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বগুড়ার নবগঠিত দুই ইউনিয়নের বিতর্কিত নাম দ্রুত পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসনকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই বিশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে এই ইউনিয়নগুলোর বিতর্কিত নামকরণ করা হয়েছিল।প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হবে। তবে শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি মৌখিক নির্দেশনা পাওয়ায় জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই বা মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিয়েছে। এর আগে গত ১১ জুন বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেই সময়ে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত আদেশে ওই এলাকায় মোট চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের কথা জানানো হয়।

নতুন গঠিত এই ইউনিয়নগুলোর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‍‍`মীরবাড়ী‍‍` এবং মোকামতলা উপজেলায় ‍‍`সীমান্ত‍‍`, ‍‍`দিগন্ত‍‍` ও ‍‍`স্বর্ণগ্রাম‍‍` নাম রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটি নাম নিয়েই স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে মীরবাড়ী এবং তাঁর দুই ছেলের নাম অনুযায়ী সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাক আলম দিগন্তের নাম এতে সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছিল।

নামকরণের এই পারিবারিক বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিষয়টি পরবর্তীতে জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করা হলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন যে এই নামকরণ সম্পূর্ণ কাকতালীয় ছিল। তিনি জানান যে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে এবং গণশুনানির মাধ্যমে স্থানীয়দের মতামত নিয়েই এই নামগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রীর এই আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যার পরেও সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা অবিরত চলতে থাকে। এই বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিতর্ক এড়াতে এবং জনআকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে নামগুলো পরিবর্তনের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। নতুন নাম চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আবারও নতুন করে স্বচ্ছ গণশুনানির আয়োজন করা হবে।