জুন ২৯, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে হঠাৎ প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে মন্ত্রী এই জাতীয় সংকটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
সংসদে দেওয়া বিশেষ বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে সৃষ্ট এই আকস্মিক ঘাটতি সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে বাধ্যতামূলকভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় খুব শিগগিরই রাজধানী ঢাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং দিতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট সংকেত দেন। তবে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া সুনির্দিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটির নাম সংসদে প্রকাশ করেননি মন্ত্রী। বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় জাতীয় সংকট হিসেবে অভিহিত করে এই বিপর্যয় উত্তরণে দলমত নির্বিশেষে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, একটি কেন্দ্রের বয়লারের টিউবে আকস্মিক লিক বা ছিদ্র হওয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে সেটির উৎপাদন সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় অপর একটি কেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত কয়লা জাহাজ থেকে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।
কয়লা আনলোড করতে না পারার কারণে সেই কেন্দ্রটির উৎপাদনও সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত ও সাগর শান্ত হলে পরিস্থিতির আশাপ্রদ উন্নতি হবে এবং লোডশেডিংয়ের প্রকোপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। সংসদে এই বিবৃতি দেওয়ার আগে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলেও সংসদকে অবহিত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন