জুলাই ৮, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল সাংবাদিকতার নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে একে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা, মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতি-নৈতিকতা বিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্য বিধানের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্ব-প্রণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এটি পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কয়েকটি রিট মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিবেশ, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সার ভিত্তিক ডিজিটাল কন্টেন্টের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থি সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করলে কাউন্সিলের শুনানির মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হলে বিবাদীকে সতর্ক, ভর্ৎসনা ও তিরস্কারের রায় প্রদান করা হয়।এদিন সংসদে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮৪টি শিল্পনগরী বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যেখানে ১৩ হাজার ৩৬৪টি শিল্পপ্লটের মধ্যে ৬ হাজার ৩৫৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন