শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

এমপি পদও হারাচ্ছেন গাজী নজরুল

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ২২, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

এমপি পদও হারাচ্ছেন গাজী নজরুল

ছবি - সংগৃহীত

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও জাতীয় সংসদে তাঁর সদস্য পদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দলীয় বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে পর্যালোচনা।অতীতে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ হারানোর বা বহাল থাকার বেশ কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সংবিধান ও সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি প্রাথমিক সদস্যপদসহ কোনো নেতাকে দল থেকে পুরোপুরি বরখাস্ত করে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তাঁর সদস্যপদ বাতিলের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়, তবে সাধারণত সেই পদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। 

এর আগে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছিল। তবে কোনো দল যদি কেবল দলীয় বা সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কিংবা স্পিকারের কাছে সুনির্দিষ্ট আবেদন না করে, তবে সদস্যপদ বহাল থাকার নজিরও রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদের সময়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোর কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে একটি কক্ষে দেখা যাওয়ার পর স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন যে ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। 

দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং নির্বাচন কমিশনকে তা অবিলম্বে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন সংসদের বিধিমালা এবং স্পিকারের কাছে দলীয় সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করছে তাঁর সংসদ সদস্য পদের পরবর্তী পরিণতি।