রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছিল তেলবাজ সাংবাদিকরা

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ২৪, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছিল তেলবাজ সাংবাদিকরা

ছবি - সংগৃহীত

দুই বছর আগের এই দিনে উত্তাল ছিল বাংলাদেশের রাজপথ। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের ওপর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের চালানো নির্মম দমনপীড়নের অন্যতম ভয়াবহ দিন ছিল ২৪ জুলাই ২০২৪। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বিচারে গুলি ও চিরুনি অভিযানে ঝরে যাচ্ছিল তরতাজা প্রাণ, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে একদল সুবিধাভোগী সাংবাদিক আন্দোলনকারী ছাত্রদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে খুনি সরকারের বন্দনায় ব্যস্ত ছিলেন।

রক্তাক্ত সেই দিনে নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাব ছাড়িয়ে দুই শ পার হয়েছিল।হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ অজ্ঞাত লাশগুলোর পরিচয় মেলেনি। বাধ্য হয়ে এদিন আটটি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসাবাড়ির গেটে গিয়ে শিক্ষার্থী খোঁজার নামে চলে তল্লাশি ও হয়রানি। সারা দিনে গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় এক হাজার চার শ জনকে। 

এর মধ্যে কেবল রাজধানীতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে ছয় শ একাংশকে। সব মিলিয়ে আট দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। সাভারের এনাম মেডিকেল ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও চার তরুণ।নৃশংসতার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক চিত্র দেখা যায় নারায়ণগঞ্জে। 

নিজ বাসার ছাদে বাবার কোলে থাকা অবস্থায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারায় সাড়ে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থেকে সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে গুমের শিকার হওয়া তিন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের ও রিফাত রশীদকে এদিন বিভিন্ন স্থানে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। অন্ধকার কক্ষে আটকে রেখে তাদের ওপর চালানো হয়েছিল মধ্যযুগীয় নির্যাতন।

ঠিক যখন রাজপথে ছাত্রদের রক্ত ঝরছিল, তখন এডিটরস গিল্ডের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে হাজির হন তৎকালীন একদল অনুগত সম্পাদক ও সাংবাদিক। গণহত্যার মামলায় কারাবন্দি মোজাম্মেল হক বাবুসহ ৩৭ জন সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক ওই বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনকে ‘নাশকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বলে অভিহিত করা হয়। আবেদ খান দম্ভোক্তি করে জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। শ্যামল দত্ত ও নঈম নিজামরা আন্দোলনকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। 

একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা ও সংবাদ চেপে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। অথচ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন এই প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছিল।