জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গভীর করতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, টেকসই শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কেবল সাধারণ কোনো বৈদেশিক বিনিয়োগ চায় না, বরং দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এমন বহুমুখী বিনিয়োগই রাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার।
রাজধানীতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: বর্ধিত আস্থা ও নতুন দিক-নির্দেশনা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ড. তিতুমীর বলেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় চব্বিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হলেও চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থান করছে।
এই বিশাল বাণিজ্য ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনতে পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত দ্রব্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যের মতো উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া উল্লেখ করে তিনি জানান যে, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতিকে প্রথমে পুনরুদ্ধার, এরপর পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তীতে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।
চীনা প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে একটি আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের গঠনমূলক ও ইতিবাচক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বোচ্চ কৌশলগত স্তরে উন্নীত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন