রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এলপিজির পর এবার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাও বেসরকারি খাতে ছাড়ার চিন্তা

জাতীয় ডেস্ক

আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

এলপিজির পর এবার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাও বেসরকারি খাতে ছাড়ার চিন্তা

Ai - ছবি

নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষ এমনিতেই ব্যাপক চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সিস্টেম লস ও আর্থিক ঘাটতি পোষাতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি এবং জ্বালানি খাতের বাকি অংশও বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সরকারি নীতিনির্ধারকদের দাবি, বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে লোকসান কমার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে থাকা অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হবে।

তবে এর আগে এলপিজির দাম কমানোর সরকারি নির্দেশনার পরও বেসরকারি সিন্ডিকেটের দাপটে নির্ধারিত দামে তা কিনতে পারেনি দেশের সাধারণ মানুষ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশের জন্য এখনই বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যাওয়ার উপযুক্ত সময় আসেনি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ঢাকার বাইরের অঞ্চলগুলোতে বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে বিল আদায় করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি হাতে ছেড়ে দিলে এলপিজি খাতের মতোই আরেকটি নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ার ভয়াবহ শঙ্কা রয়েছে।

একই ধরনের মত দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি জানান, জ্বালানি বা বিদ্যুৎ কেবল মুনাফা করার মতো কোনো সাধারণ ব্যবসায়িক পণ্য নয়, এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা।

জনসাধারণের কাঁধে যাতে বাড়তি খরচের চাপ না পড়ে, সেটি আগে নিশ্চিত করা জরুরি।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম যত বেশি সরকারের অধীনে রাখা যায় এবং সীমিত মুনাফার মধ্যে পরিচালনা করা যায়, দেশের জন্য সেটিই সবচেয়ে ভালো।অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তৃতীয় এফএসও স্থাপনের জন্য বর্তমানে একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশে নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং এ বিষয়ে চুক্তির অগ্রগতিও বেশ ভালো বলে জানান তিনি।