আগস্ট ৭, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক চর্চা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন যে জনগণের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমেই কেবল একটি কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে।
শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।গণতন্ত্র কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয় বরং এটি একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন যে মানুষের চিন্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক চর্চার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা আবশ্যক।
স্বাধীনতার পর দেশে দীর্ঘস্থায়ী নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় না থাকার কথা স্মরণ করে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের মেয়াদ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই অনাস্থা প্রকাশ বা অযৌক্তিক চাপের সমালোচনা করে তিনি জানান যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি বা মব তৈরির সংস্কৃতি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে তোলে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক নির্ভরতা অনেক সময় স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি কোনো সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীরা আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আত্মসংযমের পথ বেছে নেন, যা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তাভাবনা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত অধিকার রক্ষা এবং সাহসিকতার সঙ্গে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা দূর করার মাধ্যমেই কেবল একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি তার বক্তব্যে জোরালোভাবে উল্লেখ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন