শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করার অঙ্গীকার এলজিআরডি মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করার অঙ্গীকার এলজিআরডি মন্ত্রীর

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রতিটি পদক্ষেপে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্র পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বা ডিপিএইচই অডিটোরিয়ামে অধিদপ্তরের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় সরকারের নীতিনির্ধারকদ্বয় এই যৌথ অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

প্রজাতন্ত্রের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রকৃত অর্থে জনগণের সেবক হওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বর্তমান সরকার যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনা ও পর্যবেক্ষণকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে সর্বদা প্রস্তুত। সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তা বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত তা সংশোধনের উদ্যোগ নেবে। তবে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য, অপপ্রচার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে নাগরিক ও অংশীজনদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। দেশের মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রান্তিক মানুষের সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন ড. মঈন খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক সংস্কারের ওপর জোর দেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে নিছক গতানুগতিক উন্নয়ন প্রকল্পকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল মানুষের বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে হবে। সরকারের ইতোমধ্যে নির্মিত অবকাঠামোসমূহের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা, অপচয়যোগ্য বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিপিএইচই-এর মাঠপর্যায়ের বিদ্যমান অবকাঠামো যথাযথভাবে সচল রাখতে একটি স্থায়ী পৃথক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ও নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ রাখা অপরিহার্য। এছাড়া দেশের বৃহৎ মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন এবং ছোট পৌরসভা ও উপজেলা সদরে পরিবেশবান্ধব কম খরচের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চালুর পরামর্শ দেন তিনি। প্রাকৃতিক নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ের পানি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ বৃদ্ধি করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।