অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
শিশুর জন্মের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিগুলোর একটি হলো জন্ম নিবন্ধন সনদ। স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও চাকরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে এই সনদ প্রয়োজন হয়। তাই সন্তানের জন্মের পর সময়মতো জন্ম নিবন্ধন করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করা সম্ভব।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার জন্য প্রথমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইট বিডিআরআইএস-এ (https://bdris.gov.bd/) প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘জন্ম নিবন্ধন আবেদন’ অপশন নির্বাচন করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। আবেদন করার সময় জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা বিদেশে থাকলে বাংলাদেশ দূতাবাস যে ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন করবেন, সেটি সঠিকভাবে বেছে নিতে হবে।
আবেদন ফর্মের শুরুতেই নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়। নাম বাংলা ও ইংরেজি—উই দুই ভাষাতেই লিখতে হবে। পাশাপাশি জন্মতারিখ, লিঙ্গ, পিতা-মাতার কততম সন্তান এবং ধর্মসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এরপর জন্মস্থানের বিস্তারিত ঠিকানা যেমন—দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলা, পৌরসভা বা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, ডাকঘর, গ্রাম বা মহল্লা এবং প্রয়োজনে বাড়ি ও সড়কের তথ্য প্রদান করতে হবে।
পরবর্তী ধাপে পিতা ও মাতার তথ্য চাওয়া হয়। তাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ, বাংলা ও ইংরেজি নাম এবং জাতীয়তা দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্যও দিতে হতে পারে। নিবন্ধিত ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে পিতা এবং মাতার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে তা বাধ্যতামূলক নয়। আপনার তথ্য অনুযায়ী পিতা এবং মাতার তথ্য প্রদান করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
এরপর আবেদনকারীর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিতে হবে। জন্মস্থানের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা একই হলে নির্দিষ্ট অপশন নির্বাচন করে একই তথ্য ব্যবহার করা যায়। বয়স ও স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণক হিসেবে প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ছবি আপলোড করার ব্যবস্থা রয়েছে। বিডিআরআইএস অনুযায়ী, এখানে জেপিজি, জেপিইজি ও পিএনজি ফাইল আপলোড করা যায় এবং প্রতিটি ফাইলের সর্বোচ্চ আকার দুই মেগাবাইট হতে পারে।
সব তথ্য পূরণ ও প্রয়োজনীয় সংযুক্তি দেওয়ার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হয়। ওটিপি যাচাইয়ের পর আবেদনটি সফলভাবে সাবমিট করা যায়। আবেদন সম্পন্ন করার পর আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হয়। অনলাইন ফর্ম পূরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায় না; আবেদন যাচাই ও নিবন্ধনের পর সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সরকারি ফি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না। ৪৫ দিনের পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধনের ফি ২৫ টাকা, ৫ বছরের বেশি হলে ৫০ টাকা এবং জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল সনদ বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সনদের কপি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি যাচাই সেবার মাধ্যমে ১৭ অঙ্কের নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে তথ্য মিলিয়ে দেখা সম্ভব।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন