অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ১০:০২ এএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রশ্নে এক জটিলতার মধ্যে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গণভোট কবে এবং কোন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসা এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকায় ইসি এক प्रकार (এক প্রকার) ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তাদের সামনে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমটি রাজনৈতিক, দ্বিতীয়টি কারিগরি।রাজনৈতিকভাবে, বিএনপি ও এনসিপির মতো দলগুলো চাইছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই একই সঙ্গে গণভোট আয়োজন করা হোক, যাতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের মতো দলগুলো নির্বাচনের আগেই, অর্থাৎ নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যে, গণভোট সম্পন্ন করার দাবিতে সোচ্চার।
এই মতবিরোধের কারণে ইসি কোনো একক সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না।এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জটি কারিগরি। গণভোটের ব্যালট পেপারটি কি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মতো একটি বিষয়ে হবে, নাকি জুলাই সনদের একাধিক ধারার ওপর আলাদা আলাদা মতামত চাওয়া হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, যদি গণভোট একটি বিষয়ে হয়, তবে তা জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব।
কিন্তু যদি সনদের একাধিক ধারার ওপর মতামত চাওয়া হয়, তবে একজন ভোটারের ভোট দিতে অনেক বেশি সময় লাগবে, যা একই দিনে দুটি ভোট আয়োজনকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।এই পরিস্থিতিতে ইসির একজন কমিশনার, আবদুর রহমানেল মাছউদ, ব্যক্তিগত মত হিসেবে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে একই দিনে দুটি ভোট আয়োজন করা উচিত এবং ইসির সেই সক্ষমতা রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নির্বাচনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা উচিত।সব মিলিয়ে, সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত গণভোট নিয়ে এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন