সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশের কিছু অঞ্চল ‘পানি সংকটাপন্ন’ ঘোষিত, কড়া নির্দেশনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ০৩:৫৮ পিএম

দেশের কিছু অঞ্চল ‘পানি সংকটাপন্ন’ ঘোষিত, কড়া নির্দেশনা

দেশের কিছু অঞ্চলকে ‘পানি সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উদ্বেগজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও জলাধার সংরক্ষণের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী, যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই এলাকাগুলোকে সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হলো।

প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২৫টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নকে 'অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন', ৪০টি ইউনিয়নকে 'উচ্চ পানি সংকটাপন্ন' এবং ৬৬টি ইউনিয়নকে 'মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন' এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার পটিয়া পৌরসভার ৫টি মৌজা 'অতি উচ্চ' এবং ৩টি মৌজা 'উচ্চ' পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া ওই উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৭টি মৌজা 'অতি উচ্চ', ৯টি ইউনিয়নের ২৭টি মৌজা 'উচ্চ' এবং ৮টি ইউনিয়নের ৩০টি মৌজা 'মধ্যম' পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পানি সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষিত এসব এলাকায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে, যা প্রতিপালন বাধ্যতামূলক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, খাবার পানি সরবরাহ ব্যতীত অন্য কোনো কারণে নতুন করে নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এমনকি খাবার পানি ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনে বিদ্যমান নলকূপের মাধ্যমেও ভূগর্ভস্থ পানি তোলা যাবে না। এসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল কোনো নতুন শিল্প বা প্রতিষ্ঠানও স্থাপন করা যাবে না। পানি সম্পদের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও, এসব এলাকার খাল, বিল, পুকুর, নদী তথা কোনো জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না এবং জলাশয়গুলো জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। জনগণের ব্যবহারযোগ্য খাস জলাশয় ও জলমহাল ইজারা দেওয়ার বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ কোনোভাবেই বিঘ্নিত করা যাবে না এবং কোনো জলাধারের সম্পূর্ণ পানি আহরণ করে তা নিঃশেষ করা যাবে না। ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট হতে পারে এমন কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নদী বা জলাশয়ে বসতবাড়ি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের অপরিশোধিত তরল বা কঠিন বর্জ্য নির্গমন কঠোরভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, অধিক পানি নির্ভর ফসলের উৎপাদন সীমিত করে পানি সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন করা বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।