রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিনোদনের নামে বিপদের দোরগোড়ায় তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০৫:৩৩ পিএম

বিনোদনের নামে বিপদের দোরগোড়ায় তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা

ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আগুন যেন এক ধরনের বিনোদনের উপকরণ হয়ে উঠেছে। টিকটক, শর্টস বা রিলসে আগুন নিয়ে স্টান্ট করার প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কিন্তু এই হাসিঠাট্টার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের ঝুঁকি, যা হয়তো ভিডিও দেখার সময় আমরা বুঝতেই চাই না।

পুকুরের ওপর মাচা বানিয়ে গোসলের ফানি ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে এক তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পানিতে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে তার মধ্যেই ঝাঁপ দেন।

দুঃসাহসী দৃশ্যটি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও তার পরিণতি ভয়াবহ। তার শরীরের প্রায় ৩৫ শতাংশ পুড়ে যায় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

এছাড়াও, গত বছর আয় বাড়ানোর আশায় নিজের পাঁচ লাখ টাকার মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে ভিডিও করেছিলেন এক তরুণ বাইকার। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। অথচ সেই ভিডিও থেকে তার আয় হয়েছিল মাত্র বাইশ হাজার টাকা। ক্ষুদ্র লাভের আশায় নিজের মূল্যবান সম্পদ পুড়িয়ে ফেলা এবং জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া—এটাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলা যায় না।

শীত এলেই আগুন নিয়ে কন্টেন্ট তৈরির হিড়িক যেন বেড়ে যায়। কেউ আগুনে পা দিচ্ছেন, কেউ আগুন হাতে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। অসুস্থ প্রতিযোগিতা, দ্রুত খ্যাতি আর ভিউয়ের লোভ তরুণদের অনেকে এক ধরনের কৃত্রিম দুঃসাহসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভাইরালের আনন্দ ক্ষণিক, কিন্তু আগুনের ভুল ব্যবহার আজীবনের ক্ষত তৈরি করতে পারে।ফানি বা বিনোদনমূলক কনটেন্ট বানানো দোষের কিছু নয়। তবে যে কোনো কনটেন্টের আগে সবচেয়ে জরুরি হলো নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনার ভিডিও যেন কাউকে ভুল পথে না ঠেলে দেয়, সেই দায়ও কনটেন্ট নির্মাতারই। একজন নির্মাতার কাজ শুধু বিনোদন দেওয়া নয়, দায়িত্বশীল হওয়াও জরুরি।বিনোদনের মান বাড়ুক, কিন্তু জীবন নিয়ে খেলা যেন আর না বাড়ে।