রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গণতন্ত্রের নামে পরিবারতন্ত্র চলছে বলে মত বিশ্লেষকের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

গণতন্ত্রের নামে পরিবারতন্ত্র চলছে বলে মত বিশ্লেষকের

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গণতন্ত্র নিয়ে বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ‍‍`গণতন্ত্রের আড়ালে অঘোষিত রাজতন্ত্র‍‍` হিসেবে অভিহিত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আজাদ খান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি দেশের বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী গণআকাঙ্ক্ষা এবং বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা তুলে ধরেন।বিশ্লেষক আজাদ খান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে মূলত পরিবারতন্ত্র বা ডাইনেস্টি ধারার রাজনীতি চলছে। 

৯০-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে যে দলগুলো ক্ষমতায় এসেছে, তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার মতে, এই ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত রাজতন্ত্রের চেয়েও জটিল, কারণ এখানে বিশাল রাজনৈতিক কর্মীবাহিনী ও সাংবিধানিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এককেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার করা হয়।

নিবন্ধে বর্তমান বিএনপি সরকারের দুই মাসের কার্যক্রম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের পর সরকারের কিছু পদক্ষেপে জনগণের মধ্যে মোহভঙ্গ শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। 

বিশেষ করে গণভোটকে অস্বীকার করা এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে বড় ধরনের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।এছাড়া শিক্ষাঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ এবং সাইবার সিকিউরিটি আইনের অপব্যবহার করে অ্যাক্টিভিস্টদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেছেন আজাদ খান। তার মতে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি এবং চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি গত ফ্যাসিস্ট সরকারের চেহারাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

দেশের বর্তমান ব্যবস্থাকে হটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র বা রাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলো ওল্ড এস্টাবলিশমেন্টের মাধ্যমে সুবিধা আদায় করছে। এই ব্যবস্থা ভাঙতে হলে দেশে শক্তিশালী অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট শক্তি গড়ে তোলা জরুরি। তরুণ সমাজ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।বিশ্লেষক আজাদ খান সতর্ক করে বলেন, ২৪-এর বিপ্লবের পর জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ না হলে একটি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বা ‘অক্টোবর বিপ্লব’ খুব বেশি দূরে নয়। বর্তমান সরকারের শাসনপদ্ধতি যদি দ্রুত পরিবর্তন না হয়, তবে জনগণের মোহভঙ্গ হয়ে নতুন কোনো গণঅভ্যুত্থানের রাস্তা প্রশস্ত হতে পারে।