শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

‘আমি বিচার চাই না’— এক বাবার আর্তনাদ, একটি জাতির কলঙ্ক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২১, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

‘আমি বিচার চাই না’— এক বাবার আর্তনাদ, একটি জাতির কলঙ্ক

এক বাবার আর্তনাদ

ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়েছে, যা পুরো মানবতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মায়ের ডাকের মাত্র কয়েক হাত দূরে ঘটে যাওয়া এই জঘন্য অপরাধ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা অসুস্থ মানসিকতারই এক বিষাক্ত বহিঃপ্রকাশ। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় প্রতিটি বিবেকবান মানুষের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যায়, যেন সমাজ তার মানবিকতার শেষ বিন্দুটিও হারিয়ে ফেলেছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতাকে সামনে এনে রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা যখন বলেন, ‘আমি বিচার চাই না’, তখন যেন পুরো জাতির বিচারব্যবস্থার মৃত্যুসনদ লেখা হয়ে যায়।

একজন অসহায় বাবা জানেন যে, এই দেশে বিচার চাওয়াটাও এক ধরনের বিলাসিতা, কারণ প্রভাবশালীদের চাপে অনেক সময়ই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বদলে যায় এবং বিচার প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশে যৌন সহিংসতার মাত্র তিন থেকে পাঁচ শতাংশ ঘটনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে পরিণত হয়। 

নরসিংদীর আমেনা কিংবা নোয়াখালীর আছিয়ার মতো অসংখ্য নাম শুধু পরিসংখ্যান হয়ে আছে, কারণ প্রথম অপরাধের উপযুক্ত বিচার না হলে সমাজে দ্বিতীয় অপরাধের সাহস জন্মায়। একটি সুশৃঙ্খল অপব্যবস্থার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিচারহীনতার দীর্ঘস্থায়ী সংস্কৃতি ধর্ষক ও অপরাধীদের প্রতিনিয়ত আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলেছে।রাষ্ট্রের এমন সীমাহীন ব্যর্থতার মাঝেও দেশের সাধারণ মানুষ আজ শুধু একটাই মৌলিক দাবি নিয়ে সোচ্চার— ‘উন্নয়ন চাই না, জীবনের নিরাপত্তা চাই।’

একটি রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে মাথা উঁচু করে বাঁচে, যখন সে তার সবচেয়ে ছোট ও অসহায় নাগরিককে বাঁচাতে পারে। রামিসার বাবার সেই বুকফাটা আর্তনাদ ও অবিশ্বাসের কথাকে ভুল প্রমাণ করে এবার দেশের বিচারব্যবস্থাকে তার হারানো বিশ্বাস অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে। আগামীতে আর কোনো শিশুর যেন এমন নির্মম পরিণতি না হয়, তার জন্য সব অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।