ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির কাছে কোনো আসন না চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণতন্ত্র মঞ্চ। একইসঙ্গে মঞ্চের নেতারা দেশের ৩০০টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে এবং নিজ নিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে মঞ্চের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে জোটের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল।আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না অংশ নিয়ে ইঙ্গিত দেন যে, বিএনপি হয়তো শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে আসন নিয়ে সমঝোতা করতে আগ্রহী হবে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এই বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি আলোচনার প্রক্রিয়াকে অনুসরণ না করেই ইতোমধ্যে বেশ কিছু আসনে তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যদিও তিনি এ কথা নিশ্চিত করেন যে, তাদের সঙ্গে বিএনপির আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে। সাইফুল হকের এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের আসন ভাগাভাগি নিয়ে ভেতরে ভেতরে যে টানাপোড়েন ও দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।এদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারি জোনায়েদ সাকি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন পেছাতে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি বিশেষ দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্র মঞ্চের ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার এই ঘোষণা বিএনপি-র ওপর একটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মঞ্চ এই ঘোষণার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে শুধুমাত্র বিএনপির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালো করতে আগ্রহী। এখন সকলের দৃষ্টি থাকবে এই দিকে যে, মঞ্চের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনগুলোতে বিএনপির সঙ্গে তাদের নির্বাচনী সমঝোতার ক্ষেত্রে কোনো নতুন রূপরেখা তৈরি করে কিনা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন