বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বিএনপি-জামায়াত কি জাতীয় সরকার গঠন করবে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

বিএনপি-জামায়াত কি জাতীয় সরকার গঠন করবে?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন কেমন হবে, তা নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী যেখানে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের কথা বলছে, সেখানে বিএনপি জোর দিচ্ছে ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ গঠনের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শব্দগত মিল থাকলেও দুই দলের এই প্রস্তাবনার মধ্যে কৌশলগত ও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

তারেক রহমান-শফিকুর রহমান বৈঠক ও নতুন ইঙ্গিত সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ১ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করতে যান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের আমির গণমাধ্যমকে বলেন, “পাঁচ বছরের জন্য দেশের স্থিতিশীলতা ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবাই মিলে ভালো কোনো পথ বের করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।” তার এই ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ মন্তব্য থেকেই মূলত দুই দলের যৌথ সরকার গঠনের গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে।

জামায়াতের ‘জাতীয় সরকার’ ধারণা ও তিন শর্ত বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতার কেন্দ্রে বা কাছাকাছি থাকতে চাইছে। দলটি মনে করে, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কোনো একক দলের পক্ষে কঠিন হবে। তাই তারা জাতীয় সরকারের পক্ষে। জামায়াত জাতীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান শর্তের কথা বলছে:

দুর্নীতির কোনো সুযোগ না দেওয়া।

বিচার বিভাগে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় সব দলের সম্মত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা।

জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেছেন যে, তারা কোনো সরকারে গিয়ে দুর্নীতির দায় নিতে প্রস্তুত নন। নির্বাচনে জয়ী হলে যারা এই শর্তগুলোতে একমত হবে, তাদের নিয়েই জামায়াত সরকার গঠন করতে চায়।

বিএনপির ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ ও দূরত্ব অন্যদিকে, বিএনপির অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। দলটি ২০২২ সালে যুগপৎ আন্দোলনের সময় দেওয়া ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করেছিল। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তারা মূলত যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়েই এই সরকার গঠন করতে চান, যেখানে জামায়াতকে বাদ রাখার সম্ভাবনাই বেশি। বিএনপি মনে করে, তাদের প্রস্তাবিত সরকার ব্যবস্থায় জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত না করেই রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব।

বর্তমান সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলই নিজেদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আবির্ভূত হয়েছে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং অতীতের রাজনৈতিক দূরত্বের কারণে আস্থাহীনতা এখনো প্রবল। লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থ থেকেই এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, তারা অপর দলকে সরকারে অংশীদার করবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে বিএনপি ও জামায়াতের এই তাত্ত্বিক দূরত্বের অবসান হবে, নাকি তা আরও দীর্ঘায়িত হবে।