জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের মঞ্চে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের (৪২) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে ও রাতে পৃথক দুটি জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহ শ্রীবরদীতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় তার নিজ গ্রাম গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। মাওলানা রেজাউলের জানাজা ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চার প্লাটুন বিজিবি ও অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। মাতৃহীন রেজাউলের বৃদ্ধ বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ নির্বাক হয়ে ছেলের কবরের দিকে তাকিয়ে আছেন। শোকার্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেন, “ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘাতকদের শনাক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে আমরা দ্রুত হত্যা মামলা দায়ের করব।” নিহতের শ্বশুর হাফেজ মো. আবুবকর এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘাতকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রশাসনিক গাফিলতির দায়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এলাকায় বর্তমানে শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও থমথমে ভাব কাটেনি। বাজারে বিজিবি ও সেনাবাহিনী টহল জোরদার করেছে।জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। যদিও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে পুলিশ তদন্তের কাজ গুছিয়ে এনেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন