সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আমিনুল হকের, গেজেট স্থগিতের দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ আমিনুল হকের, গেজেট স্থগিতের দাবি

ফলাফল বাতিলের দাবি

ঢাকা ১৬ আসনে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি ভোট জালিয়াতি ও মেকানিজমের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের হেভিওয়েট প্রার্থী মো. আমিনুল হক। শনিবার দুপুরে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। সাবেক এই মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে ঢাকা ১৬ আসনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত ছিল কিন্তু একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। 

আমিনুল হক দাবি করেন যে নির্বাচনের দিন বহু কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রিজাইডিং অফিসাররা নিজেরাই ব্যালট পেপারে সিল মেরেছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে জামায়াতের প্রার্থী প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। তিনি অভিযোগ করেন যে অনেক কেন্দ্রের ফলাফল বিবরণীতে ধানের শীষের কোনো এজেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি যা সরাসরি ভোট কারচুপির বড় প্রমাণ। 

সহজ কথায় বলতে গেলে আমিনুল হক মনে করেন যে সরকারি মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ঢাকা ১৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। মাত্র তিন হাজার ভোটের এই ব্যবধানকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন আমিনুল হক। 

তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যেন এই আসনের ফলাফল পুনর্গণনা করা হয় অথবা অবিলম্বে সরকারি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইয়ের পর এমন অভিযোগ নির্বাচনী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আমিনুল হক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। 

তিনি মনে করেন যে সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ফলাফল বেরিয়ে আসবে এবং জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ সময় তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় সেটিই এখন দেখার বিষয় কারণ কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপরেই এই অভিযোগের সুরাহা নির্ভর করছে।