ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে এবার এমন কিছু চমক দেখা গেছে যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে ফিরছেন এমন তিনজন হেভিওয়েট নেতা যারা গত দেড় দশক ধরে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাটিয়েছেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভিন্ন মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পান এবং জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন।
এই তালিকায় আছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। বলা যায় ফাঁসির দড়ি থেকে ফিরে আসা এই তিন নেতাকে এদেশের মানুষ নেতৃত্বের মুকুটে বরণ করে নিয়েছে।
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি এক দিনের জন্যও জামিন পাননি। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি তার নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার এই বিজয় প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবেই বিবেচনা করেছে।
ঠিক একইভাবে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুও দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দি থাকার পর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পান। টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ে তিনি প্রায় ২ লাখ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে রংপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এক বিশাল জয় ছিনিয়ে এনেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই নেতা দীর্ঘ ১২ বছর জেল খেটে গত বছরের ২৮ মে মুক্তি পান। নির্বাচনে তিনি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীকেও পরাজিত করেছেন যা উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সহজ কথায় বলতে গেলে এই তিন নেতার মুক্তি এবং পরবর্তী নির্বাচনে এই বিশাল জয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ভোটাররা তাদের ওপর আস্থা রেখে এই বার্তা দিয়েছেন যে তারা ন্যায়বিচারের পক্ষে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির বিপক্ষে। কারাগার থেকে সরাসরি সংসদে এই প্রত্যাবর্তন কেবল তাদের ব্যক্তিগত বিজয় নয় বরং এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পুনরুত্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন