বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

জনগণের স্বার্থই হবে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি: তারেক রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম

জনগণের স্বার্থই হবে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি: তারেক রহমান

পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে আগামী দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে কেবল দেশের স্বার্থ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে। 

এই সংবাদ সম্মেলনে একজন ভারতীয় সাংবাদিক তারেক রহমানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে ভারতের সাথে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে তার ভাবনা কী। 

জবাবে তারেক রহমান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তাদের অবস্থান আগে থেকেই স্পষ্ট এবং তা হলো বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ সবার আগে। তিনি মনে করেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজের দেশের মঙ্গলের কথা ভেবেই অন্য দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। 

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার যে তারেক রহমান প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও পররাষ্ট্রনীতির ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন যে কোনো একক দেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নয় বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই বিদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে বাংলাদেশ। বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক হবে দ্বিপাক্ষিক এবং এখানে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়ে আমীর খসরু জানান যে এটি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিষয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কোনো অভিপ্রায় তাদের নেই। সহজ কথায় বলতে গেলে বিএনপি এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও আধুনিক পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে চায় যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। তারেক রহমানের এই বক্তব্য থেকে এটি পরিষ্কার যে জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষাই হবে নতুন সরকারের প্রধান চালিকাশক্তি। 

দেশের মানুষ এখন এমন একটি নেতৃত্ব আশা করে যা বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের এই সাহসী ও সময়োপযোগী অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বস্তুত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান সুসংহত করতে চায়।