ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার দুপুরে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে মন্ত্রী যা বলেছেন, তা কেবল অসঙ্গতই নয় বরং এটি দেশের ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করার নামান্তর।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইনকিলাব শব্দটি আরবি উৎসভিত্তিক হলেও এটি এই উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাষা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না বরং তা জনগণের ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়।
বাংলা ভাষায় অসংখ্য তদ্ভব ও তৎসম শব্দের পাশাপাশি আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজি শব্দ মিশে আছে। তাই কোনো শব্দের উৎপত্তিগত কারণ দেখিয়ে তাকে বাংলাবিরোধী আখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। জামায়াতের দাবি, এ ধরনের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি জাতির মধ্যে অনর্থক বিভাজন তৈরি করে।অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী এই স্লোগান উচ্চারিত হলে তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা বলেছেন। অথচ দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তার কোনো বিকার নেই।
জনগণের অধিকার হরণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যাপক অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি এবং নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন মন্ত্রীর হৃদয়ে কোনো রক্তক্ষরণ ঘটে না। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা এবং জনগণের দুর্ভোগই জাতির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হৃদয়ে এসব বিষয় পৌঁছায় না বলেই জামায়াত মনে করে।
জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে যে, বাংলা ভাষা এ দেশের মানুষের গৌরব এবং এর বহুমাত্রিক শব্দভাণ্ডার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। কোনো একটি স্লোগানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে অবিলম্বে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানানো হয়। জামায়াত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জনগণের ন্যায্য প্রতিবাদের ভাষাকে দোষারোপ না করে বরং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন