সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শেখ পরিবারের নামে থাকা ৮৭৯ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

শেখ পরিবারের নামে থাকা ৮৭৯ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

নাম বদলাচ্ছে ৮৭৯ স্থাপনার

গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৭৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই সরকার গত ১৮ মাসের শাসনামলে এসব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে গড়ে ওঠা ব্যক্তিপূজা ও দলীয়করণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো জানিয়েছে। 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯৭৭টি স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছিল যার নামকরণ হয়েছিল শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে। তার মধ্যে ৮৭৯টি প্রতিষ্ঠানের নতুন নাম ইতিমধ্যে গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকা স্থাপনাগুলোতে। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২০৫টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপরেই রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, যেখানে ১৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম বদলানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ৮৪টি বিদ্যালয়ের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। 

এছাড়া স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন অসংখ্য মেগা সেতু, সড়ক, হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্রের নাম থেকেও শেখ পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়েছে। 

একইভাবে নওগাঁ ও মেহেরপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নামও সংশ্লিষ্ট জেলার নামে করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রাখা। এছাড়া খুলনা ও সিলেটের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নামও পরিবর্তন করে যথাক্রমে খুলনা ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। গাজীপুর ও শরীয়তপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম থেকেও রাজনৈতিক পরিচয় সরিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নামকরণ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ব্যাপক রদবদল হয়েছে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় জাতীয় স্টেডিয়াম ঢাকা করা হয়েছে। শেখ জামাল জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্সের নাম বদলে জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স এবং শেখ কামাল মিলনায়তনের নাম জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন ভবনের নামেও পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা কলেজের শেখ জামাল একাডেমিক ভবনের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে জুলাই ৩৬ একাডেমিক ভবন। সরকারি তিতুমীর কলেজের বিজ্ঞান ও প্রশাসনিক ভবনগুলো থেকেও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তন হওয়া এই তালিকায় আরও রয়েছে ৯টি সেনানিবাস, ১১টি নৌজাহাজ, ৪টি থানা এবং ৬টি পদক ও ট্রফি। স্যাটেলাইট ও ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রসহ ২৯ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন স্থাপনার নাম এখন আর শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে নেই। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা কোনো বিশেষ পরিবারের সম্পত্তিতে পরিণত হওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। তাই ইতিহাসের সঠিক চিত্র ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাকি থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।