মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক রীতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
তিনি দাবি করেন, গত ১৮ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই একই পথে হেঁটে জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সম্প্রতি ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব পদে এমন ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে জনগণের ভোটে সরাসরি পরাজিত হয়েছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র এক মাস পার হলেও সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ না নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। এটি গত জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বা জুলাই স্প্রিটকে অবজ্ঞা করার শামিল।
জামায়াতের এই নেতা জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ যেসব জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেছিলেন, সেখানেও পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধা-৩ আসনে পরাজিত এক নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক করার বিষয়টিকে তিনি হাস্যকর ও জনমতের অবমাননা বলে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, সরকার মেধার তোয়াক্কা না করে কেবল নিজেদের দলের সুবিধা নেওয়ার জন্য এবং মাঠ পর্যায়ে দলীয় আধিপত্য বজায় রাখতেই এই কৌশল অবলম্বন করেছে।
প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তনের বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনা করা হয়। আব্দুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক যাচাই-বাছাই করে মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক কারণে তাদের সরিয়ে দিয়ে দলীয় অনুসারীদের সেখানে বসাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যিনি সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারে লিপ্ত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে একজন পেশাদার ব্যক্তিকে সরিয়ে একজন ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়াকে তিনি নজিরবিহীন ও গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা স্পষ্ট জানান যে, সরকার যদি জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়, তবে তারা রাজপথে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করার এবং সরকারকে সেই কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিতর্কিত নিয়োগগুলো বাতিল করে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান। অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও প্রচার বিভাগের সহকারী মুজিবুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন