এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
গত কদিন ধরে চলা রাজনৈতিক গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন একদল তরুণ ও পরিচিত মুখ। সাবেক যুবদল নেতা ইসহাক সরকার, জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, রেল খাতের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ মহিউদ্দিন রনি এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং সারজিস আলম নতুন এই সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এনসিপি মনে করছে, মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এই অংশগ্রহণ দলটির সাংগঠনিক শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।
তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্বের এই নতুন মেরুকরণ নিয়ে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।যোগদানকারীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা ইসহাক সরকার। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকায় তার বিরুদ্ধে তিন শতাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল।
তবে পরবর্তীতে অধিকাংশ মামলাতেই তিনি আদালত থেকে খালাস পান। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।একই মঞ্চে যোগ দেওয়া মহিউদ্দিন রনি রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন করে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। অন্যদিকে নুরুজ্জামান কাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার তথ্যবহুল ও সচেতনতামূলক কন্টেন্টের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
এছাড়া শেরে বাংলার উত্তরসূরি হিসেবে ফেরসামিন হক ফ্লোরার অন্তর্ভুক্তিতে দলের রাজনৈতিক প্রোফাইলে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। তারা মনে করেন, এই নতুন নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।নতুন সদস্যদের বরণ করার পর এনসিপির নেতারা বলেন, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তারা কাজ করছেন।
গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে সমাজ ও নাগরিক অধিকার নিয়ে যারা রাজপথে কাজ করেন, এনসিপি সবসময় তাদের অগ্রাধিকার দেয়। যোগদানকারী নতুন এই মুখগুলো আগামীতে দলের নীতিনির্ধারণ ও সাংগঠনিক প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়। দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এনসিপি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন