এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত এবং জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপশক্তির কাছেই তারা নতি স্বীকার করবেন না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এই গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লব পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল এ দেশের মানুষের মুক্তির সনদ। যারা এই আন্দোলনের চেতনাকে নস্যাৎ করতে চায় এবং শহীদদের রক্তের অবমাননা করে পর্দার আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের চিহ্নিত করা হবে।
তিনি বলেন:"জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে, কোনোভাবেই থামা হবে না। জুলাইয়ের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।"জামায়াত আমির তার বক্তব্যে গণভোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১১ দলীয় জোট যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই তাদের সোচ্চার ভূমিকা থাকবে। তিনি জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলের কোনো বিশ্রাম নেই। মূলত একটি বৈষম্যহীন এবং ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যেই এই বৃহত্তর ঐক্য কাজ করছে।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তার মতে, এই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রতিফলন। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন যে, জনগণের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে কোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশবাসী তা মেনে নেবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে ফেলা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই গণসমাবেশে জোটের অন্যান্য শরিক দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে আসা হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বক্তারা সবাই একযোগে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতি রক্ষা এবং আহতদের পুনর্বাসনের দাবি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত আমিরের এই কড়া বক্তব্য আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ এবং আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন