এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
রংপুরে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। শনিবার বিকেলে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শেষ হয় শাপলা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে।
বিক্ষোভ মিছিলটি পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি পায়রা চত্বর ও রংপুর প্রেসক্লাব এলাকা অতিক্রম করে শাপলা চত্বরে পৌঁছালে সেখানে নেতা-কর্মীরা জড়ো হন।
সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।সমাবেশে বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ গণভোটের মাধ্যমে যে রায় প্রদান করেছে, তা দ্রুত কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।
এর পাশাপাশি চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলেও সময়ের আবর্তে সেই আন্দোলনের মূল চেতনা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের দেওয়া গণরায় যদি কোনোভাবে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করা হয়, তবে তার জন্য সংশ্লিষ্টদের চরম রাজনৈতিক খেসারত দিতে হতে পারে।
বক্তব্য চলাকালে উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কথা। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন উপস্থিত বক্তারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি এই সংকট পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও অসহনীয় করে তুলেছে। জনস্বার্থ রক্ষায় এসব সমস্যা সমাধানে তারা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রায়হান সিরাজী, মহানগর জামায়াতের আমীর আজম খান এবং জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আল মামুনসহ জোটের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যদি জনস্বার্থে এসব দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে রাজপথে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথাও জানান জোটের শীর্ষ নেতারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন