এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার বেলা ১১টার দিকে দীর্ঘ শুনানির পর কমিশন তাঁর দায়ের করা আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এর ফলে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধার মুখে পড়লেন তিনি।
মূলত সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ার কারণে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।এর আগে গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা দিয়েছিলেন মনিরা শারমিন।
গত ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে তাঁর প্রার্থিতা প্রাথমিকভাবে বাতিল করা হয়েছিল। বর্তমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী চাকরি থেকে পদত্যাগ করার তিন বছরের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।
মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট সময় পার না হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা কঠোর অবস্থানে ছিলেন।শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনিরা শারমিন তাঁর যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যে আইনের দোহাই দিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, সেটির আক্ষরিক ব্যাখ্যা দিয়ে একটি কৃত্রিম বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন না বরং একজন এন্ট্রি লেভেলের ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে মাত্র দুই বছর চাকরি করেছেন।
তাঁর মতে, এই আইনটির প্রয়োগ সংরক্ষিত নারী আসনের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে। কারণ কোনো সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তার পক্ষে কাউকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া বা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকে না।উল্লেখ্য যে, গত ২২ এপ্রিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জোটের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে কেবল মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রেই এই আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পর তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন কি না, তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন বলে জানা গেছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে এখানে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন