শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে বিশাল বিক্ষোভ

শহিদুল ইসলাম

মে ২, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে নীলফামারীতে বিশাল বিক্ষোভ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীতে গণভোটের রায় কার্যকর এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার (২ মে) বিকেলে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।বিকেল সাড়ে ৫টায় নীলফামারী বড় বাজার এলাকা থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। 

মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ চৌরঙ্গী মোড় হয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা বৃথা যেতে দেব না’ এবং ‘জুলাই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করো’—এমন সব স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। জুলাই সনদ আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে আবারও রাজপথে দাবানল সৃষ্টি করা হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অগ্রাহ্য করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপি নেতা ও জেলা সভাপতি ডা. কামরুল ইসলাম দর্পন বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের ভোট নিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা এখন জনগণের সাথে তামাশা শুরু করেছে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে এদেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না। ক্ষমতার মোহ ছেড়ে আগে জনগণের দাবি পূরণ করার আহ্বান জানান তিনি।সমাবেশে উপজেলা আমীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১১ দলীয় জোট রাজপথ ছাড়বে না যতক্ষণ না জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তভেজা চেতনাকে কোনোভাবেই ম্লান হতে দেওয়া হবে না।

১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুস সালাম এবং নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা আমীর মাওলানা মুজিবুর, আবুল বাশার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল এবং আহমদ রায়হানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সমাবেশ শেষে নেতারা হুঁশিয়ারি দেন যে, দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিক্ষোভ সমাবেশটি সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হলেও নেতাকর্মীদের স্লোগানে দীর্ঘক্ষণ রাজপথ মুখরিত ছিল।