জুন ৯, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অর্থ আত্মসাৎ ও নির্বাচনি ফান্ডিং নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে সরাসরি ‘অ্যাবসল্যুট চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে আন্দোলন করাচ্ছে এবং ব্যাংকের অর্থ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
এর জবাবে জামায়াত আমির বলেন, “তিনি একটি দলের দিকে ইঙ্গিত করে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন কিছু সময় নেকাব খোলা ভালো—যদি তিনি নেকাব খুলতে চান, তবে এখানেও নাম বলে দিতেন। ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকা লোন নিয়ে কোনো দলের নির্বাচনি ফান্ডে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
তিনি কি জামায়াতকে ইঙ্গিত করেছেন? যদি তিনি করে থাকেন, তবে আমি তাকে অ্যাবসল্যুট চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি।”এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত ৯ হাজার কর্মীকে পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় যারা নিয়োগ পেয়েছিল, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্তের ঘোষণা দেন। এছাড়া ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি সংসদকে জানান। নাবিল গ্রুপসহ যারা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিপরীতে জামায়াত আমিরের এই পাল্টা চ্যালেঞ্জ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। সংসদ সদস্যরা বলছেন, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের এই বাকযুদ্ধ সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের আমানত রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষই এখন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও তদন্তের দাবিতে অনড়। এই বিতর্কের অবসান কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন