রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নতুন বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বলছে জামায়াত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১২, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

নতুন বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বলছে জামায়াত

বিএনপি সরকার ঘোষিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ব্যাপক ঋণনির্ভর বলে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উত্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী এবারের সংসদে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন যে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের ঘোষিত এই বাজেটে সাধারণ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। দেশকে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটের অর্থসংস্থান করতে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ফলে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট একটি প্রথা হলেও এবারের বাজেটটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অংকের ঘাটতি বাজেট।ঘোষিত বাজেটটি ব্যাপকভাবে ঋণ নির্ভর হওয়ায় ব্যাংক ঋণ এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরযোগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এই বিশাল রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কর কাঠামো বা দুর্নীতিমুক্ত কর প্রশাসনের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। 

অর্থমন্ত্রী কৌশলী ভাষায় কর বৃদ্ধির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন যা সাধারণ মানুষের জীবন এবং পোশাকশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের কর্মসংস্থানের ওপর।প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বড় বাধা রয়েছে বলে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। প্রথমত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় যা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে, দ্বিতীয়ত লাগামহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তৃতীয়ত বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। 

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি জনমুখী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রস্তাব করা হলেও সরকার ঘোষিত বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন নেই। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম এবং প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।