আগস্ট ৫, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার ও বিচারের নানা দিক তুলে ধরেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হলেও কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বর্তমানে কিছুটা ধূসর হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিগত ষোলো বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশটিকে পুরোপুরি ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে সময় লাগবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেন এই রাজনৈতিক নেতা।তিনি অভিযোগ করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের চরিত্র এবং তাদের মূল লক্ষ্য শুরু থেকেই পুরোপুরি স্পষ্ট ছিল না। অভ্যুত্থানের নেতারা মূলত একটি বিপ্লবী সরকার চেয়েছিল, যা বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু সংবিধান পুরোপুরি বাতিল বা স্থগিত না করার কারণে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মনে করেন তিনি।
সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন না করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ার ফলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হয়নি।বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকৃত পরিবর্তনের সক্ষমতা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাজেট সহায়তা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বিচার ও গণভোটের বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেছে।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অতীতে গণঅভ্যুত্থানের সুবিধা ভোগ করলেও প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তেমন ভূমিকা রাখেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও কৌশলগত জোট নিয়েও কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক।
তিনি জানান যে আগামী দশ বছরের মধ্যে দলটিকে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধিতার দায় তাদের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন যে সংস্কারপন্থী বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমেই পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপে রাখা সম্ভব হয়েছে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
সবশেষে নিজ নির্বাচনী এলাকার নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাবের বাইরে এসে দেশকে এগিয়ে নিতে সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন