সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অতীতে বিরোধী নেতাদের হেয় প্রতিপন্ন করার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, নতুন বাংলাদেশে তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে চিন্তার দৃঢ়তা ও কঠোরতা থাকতে পারে, তবে প্রকাশের ভাষা সবসময় মার্জিত ও শালীন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
প্রয়াত সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর আপসহীন ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি। রিজভী উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি কখনো পিছপা হননি। চরম নিপীড়ন, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের আদর্শ ও নীতি থেকে তিনি এক চুলও বিচ্যুত হননি। তার এই অকাল প্রয়াণে দেশের সাংবাদিক সমাজ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কর্মসূচি পালনের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক চিন্তায় ভিন্নতা ও মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু বিরোধী পক্ষের সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের আগেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন কোনো বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ন্যূনতম বাধা সৃষ্টি করা না হয়।
দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ভূ-রাজনীতি প্রসঙ্গেও খোলামেলা অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। রিজভী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে কোনো একক বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল করা যাবে না কিংবা কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের পেছনের উঠানে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে নিজের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করতে হবে। জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
স্মরণসভায় যুগান্তরের সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন