সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বুকে পাথরচাপা দিয়ে মেনে নিলেও সরকার সেটিকে দুর্বলতা মনে করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে খুলনা বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত নির্বাচনের ফলাফল কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন বা কারসাজি করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও বর্তমান সরকারকে জামায়াত অব্যাহতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। অথচ ক্ষমতাসীন পক্ষ উল্টো বিরোধী দলের সাথে রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক আচরণ ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছে। তিনি দিল্লি ও সরকারের মধ্যকার সংযোগের অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী দিল্লির সাথে সরকারের একটি গোপন বোঝাপড়া বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে একটি নতুন ও পরিমার্জিত রূপ দিয়ে দেশের রাজনীতিতে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সেই তৎপরতা চলছে। এর পেছনে সরকার ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি দায়ী বলে অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে সহায়তা করতে চাইলেও প্রশাসন বিরোধিতার স্বার্থেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সরকারকে সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সংসদে বিরোধী বেঞ্চে যাওয়ার পর বিভিন্ন জাতীয় সংকট নিরসনে সরকারের কাছে অন্তত ৩৮টি লিখিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রস্তাবই সংকট উত্তরণে সরকারকে কার্যকর পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত জামায়াত বা বিরোধী জোটের কোনো গঠনমূলক প্রস্তাব সরকার আমলে নেয়নি। ফলে বিরোধী দল সরকারকে অসহযোগিতা করছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা তিনি সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
বিএনপির সাথে অতীত সম্পর্ক প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটিকে অকৃতজ্ঞ বলে আখ্যা দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী শক্তিকে প্রতিহত করতে এবং দেশের মঙ্গলের স্বার্থে টানা পাঁচ বছর বিএনপি সরকারকে সমর্থন জুগিয়েছিল জামায়াত। এর আগে ১৯৯১ সালেও বিএনপি সরকার গঠনে জামায়াতের কাছ থেকে নিঃশর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছিল।
সেই সমর্থনের বিপরীতে দলটি রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জামায়াত নেতা বলেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি তাদের তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমিরকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। একই সাথে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় জামায়াতের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হত্যা করা হয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রাঙ্গণে ছাত্রদলের কর্মীদের হাতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বলেও তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
ঝিনাইদহের ওই সাংগঠনিক শিক্ষা শিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন