অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং পিআর পদ্ধতিসহ ৫ দফা গণদাবি যদি সরকার মেনে না নেয়, তবে জনগণের দাবি আদায়ে সরকার যে ভাষা বুঝতে চায়, সেই পথেই আন্দোলন করা হবে। তিনি বলেন, "গণভোট জাতীয় নির্বাচনের টেস্ট ম্যাচ হতে পারে।"
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গাবতলী (আমিনবাজার) পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে অনুষ্ঠিত বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের যে ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, তা হলো: ১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান। ২. পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচন। ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও বিচারের মুখোমুখি করা।
ডা. তাহের বলেন, সরকার যদি গণমানুষের দাবি উপেক্ষা করে, তবে জামায়াতে ইসলামী ইচ্ছার বিরুদ্ধেও রাজপথ উত্তাল করার কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "গণমানুষের ৫ দফা দাবি মেনে না নিলে কোনো কোনো উপদেষ্টা যদি একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে, তাহলে তাদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।"
প্রশাসনে দলীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাকে জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং একটি দলের প্রতি অনুগত। তিনি প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "যারা আপনাকে ব্যবহার করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তাদেরকে সরিয়ে দিন। নতুবা আপনার গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকবে না। আমাদের কাছে তালিকা আছে, আপনি চাইলে আমরা তালিকা দিতে প্রস্তুত আছি।"

ডা. তাহের বলেন, পিআর পদ্ধতিকে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। তিনি গণভোটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, যারা সমস্যা সৃষ্টি করবে, তারা জনগণ ও সরকারের কাছে চিহ্নিত হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একদিনে করার চেষ্টা করা হলে বুঝতে হবে তাদের উদ্দেশ্য খারাপ, কারণ এতে তারা ভোট চুরি করতে পারবে না।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নভেম্বরে গণভোট এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে সরকার গড়িমসি করলে, জনগণ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে বাধ্য হতে পারে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মাওলানা আব্দুল হালিমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন