রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ এই দুই শিক্ষার্থী হলেন পিএইচডি গবেষক জামিল লিমন এবং রাসায়নিক প্রকৌশলের শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টি। 

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ ইতিমধ্যে তাদের সন্ধানে পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিএইচডি গবেষক জামিল লিমনকে সর্বশেষ ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত তার বাসভবনে গত বুধবার সকাল ৯টার দিকে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিচিত কেউ তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। এ ঘটনায় হিলসবরো কাউন্টি শেরিফস অফিসে একটি নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে। 

নিখোঁজ হওয়ার পর লিমনের পাসপোর্টটি তার বাসাতেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা সাধারণত প্রবাসে নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, রাসায়নিক প্রকৌশলের মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টিকে ওই দিন সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে শেষবারের মতো দেখা যায়। এরপর থেকে তারও কোনো খোঁজ মিলছে না। রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি তার ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবেই রেখে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে কেবল ফোন ও পার্স ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ এই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আলাদাভাবে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করছেন, জামিল ও নাহিদা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় তারা হয়তো একসঙ্গেই কোথাও চলে গেছেন। তবে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা এই সম্ভাবনা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। লিমনের ভাই ও বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দুজনেই খুব দায়িত্বশীল এবং নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এভাবে হঠাৎ করে কাউকে কিছু না জানিয়ে দীর্ঘ সময় উধাও হয়ে যাওয়ার মতো কোনো কারণ তাদের থাকতে পারে না।

জানা গেছে, নিখোঁজ এই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের নানা পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে সেই আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের কোনো খবর ছিল না। নিখোঁজ হওয়ার দিন বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে তার আলাপচারিতা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক। বর্তমানে টাম্পা পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ এই দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অবস্থান শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।