রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরআন-হাদিসের আলোকে মধ্যমপন্থাই ইসলামের সৌন্দর্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২২, ২০২৫, ১২:০৮ পিএম

কোরআন-হাদিসের আলোকে মধ্যমপন্থাই ইসলামের সৌন্দর্য

ইসলাম মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে সুসামঞ্জস্য ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি জীবনব্যবস্থা। এর ইবাদত, সমাজনীতি, অর্থনীতি, এমনকি যুদ্ধ-শান্তি— কোনো ক্ষেত্রেই ভারসাম্যহীনতার কোনো স্থান নেই। ইসলাম সর্বদা মধ্যমপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়।

ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা অবলম্বন শরিয়তের অন্যতম চাহিদা ও এর স্বভাব হিসেবে বিবেচিত। ইসলামী পরিভাষায় এটিকে 'সিরাতে মুস্তাকিম' বলে অভিহিত করা হয়েছে—যা সহজ, সরল, মাঝামাঝি এবং কোনো প্রান্তেরই নয়, বরং সরল-সঠিক পথ।

এটি আল্লাহর গজব নিপতিত বা পথভ্রষ্ট কারো পথ নয়। আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদে এই উম্মতকে 'উম্মাতান ওয়াসাতান' বা মধ্যপন্থী উম্মত বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, "আমি তোমাদের এক মধ্যমপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি।" (সুরা: আল বাকারা, আয়াত: ১৪৩)ইসলাম কোনো ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়িকে প্রশ্রয় দেয় না। ঈমান-আকিদা থেকে নিয়ে সমাজ, পরিবার, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি—সর্বত্রই ইসলামের এই ভারসাম্যপূর্ণতা বিধৃত। ইসলাম ইহুদি ও নাসারাদের বাড়াবাড়ির কথা উল্লেখ করে মুসলিমদের সতর্ক করেছে বারবার। হাদিসে আছে, দুনিয়া থেকে শেষ বিদায় নেওয়ার সময়ও নবীজি (সা.) যে বিশেষ কয়েকটি বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করেছেন, এর মধ্যে ছিল 'কবরকে তোমরা ইবাদত ও সিজদার স্থান বানিয়ে নিয়ো না।'

অর্থাৎ কবরপূজা করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ, হাদিস: ৫৩২)এমনকি ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রেও ইসলাম বাড়াবাড়ি পছন্দ করেনি। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, "দ্বিন খুবই সহজ। যে-ই দ্বিনকে কঠোর করবে সে পরাজিত হবে।" (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস: ৩৯) কোরআন মাজিদেও ইরশাদ হয়েছে, "তোমরা তোমাদের দ্বিনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না।" (সুরা: আল মায়িদা, আয়াত: ৭৭)

এ প্রসঙ্গে নবীজি (সা.)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি মসজিদে জয়নব (রা.)-এর নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য টাঙানো দড়ি খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, "নফল নামাজ আদায় করবে যতক্ষণ শরীরে স্ফূর্তি থাকবে। ক্লান্তি দেখা দিলে ঘুমিয়ে পড়বে।" (ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ, হাদিস: ৭৮৪) আরেকবার কয়েকজন সাহাবি সারারাত ইবাদতে কাটানো, স্ত্রী গ্রহণ না করা বা সর্বদা রোজা রাখার কঠোর প্রতিজ্ঞা করলে নবীজি (সা.) ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,

"আমি তো (নফল) নামাজ পড়ি আবার নিদ্রায়ও যাই। (নফল) রোজা রাখি, আবার রাখিও না। বিয়েশাদিও করেছি। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ ও রীতির বিষয়ে অনাগ্রহী হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।" (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ, হাদিস: ৪৭৭৬) এই ভারসাম্যপূর্ণ পরিমিতি বোধই শরিয়তের এক অপরিমেয় সৌন্দর্য।