নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ১২:১৩ পিএম
ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মধ্যে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অন্যতম। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়,
সে যেন একটি উট কোরবানি করল...এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে মিম্বারে ওঠেন, তখন ফেরেশতারা আর আমল লেখেন না, তারা খুতবা শুনতে থাকেন।" (বোখারি : ৮৮১)
তবে জুমাবারে কিছু কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে হাদিসে। বিশেষভাবে মসজিদের ভেতর বিরত থাকতে হবে এমন দুটি কাজের কথা নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. মসজিদে গিয়ে কাতার ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া থেকে বিরত থাকা
জুমার দিন ইমামের কাছাকাছি বসার আগ্রহ ও চেষ্টা থাকা উচিত। কিন্তু সে জন্য আগে আগে মসজিদে উপস্থিত হতে হবে। মসজিদে পরে উপস্থিত হয়ে অন্য মুসল্লিদের ডিঙিয়ে বা তাদের কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করা অন্যায় ও গোনাহের কাজ।
একবার আল্লাহর রাসুল (সা.) জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক লোক সবার ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে আসছিল। নবীজি (সা.) তাকে দেখে বললেন:বসো, তুমি মানুষকে কষ্ট দিলে।" (আবু দাউদ : ১১১৮)
ফেকাহবিদ আলেমরা বলেন, মসজিদে শুধু ইমামের স্থান নির্ধারিত। অন্য কারও স্থান নির্ধারিত নয়। ফলে আগে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে ইমামের কাছে বসার চেষ্টা করাই সুন্নাহ।
২. জুমার খুতবার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকা
জুমার নামাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খুতবা। খুতবা চলাকালে নিশ্চুপ ও মনোযোগসহকারে তা শোনা ওয়াজিব। নবী করিম (সা.)-এর একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, খুতবা চলাকালে নিশ্চুপ থাকা কতটা জরুরি। এমনকি খুতবা চলাকালে অন্য কাউকে কথা বলতে নিষেধ করাও ইসলামে অনুচিত।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন:জুমার দিন খুতবার সময় যদি তুমি তোমার পাশের সঙ্গীকে বল ‘চুপ করো’, সেটাও অনর্থক (লাঘব)।" (বোখারি : ৯৩৪, মুসলিম : ৮৫১)অর্থাৎ, খুতবা চলাকালে কথা বলা বা অন্য কাউকে কথা বলতে বারণ করার মাধ্যমেও মানুষ মনোযোগ হারায় এবং ওয়াজিব কাজ থেকে বিরত থাকে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন