সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খাদিজা (রা.) যে ৪ গুণ নারীদের জন্য অনুসরণীয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ০২:১০ পিএম

খাদিজা (রা.) যে ৪ গুণ নারীদের জন্য অনুসরণীয়

ইসলামী ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নারীদের অন্যতম হলেন হজরত খাদিজা (রা.)। তিনি ছিলেন মহানবী (সা.)-এর স্ত্রী এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন। আদর্শ হিসেবে নারীরা মাকেই অনুসরণ করে, সেই দৃষ্টিতে মা খাদিজা (রা.) নারীজীবনের শ্রেষ্ঠ রোল মডেল।

তার দাম্পত্য জীবনের কয়েকটি গুণ নিচে তুলে ধরা হলো, যা আজকের ধর্মপ্রাণ নারীদের জন্যও অনুসরণীয়।১. চরিত্রবান জীবনসঙ্গী নির্বাচনহজরত খাদিজা (রা.) মক্কার সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী নারী ছিলেন।

প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি একাধিক বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল শুধু বিয়ে করা নয়, বরং একজন চরিত্রবান ও নীতিবান মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া।

আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে তার জন্য সেই মানুষ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।শিক্ষা: ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা পূর্ণ জীবন গড়ার প্রথম শর্ত হলো সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়া। কারণ প্রকৃত ভালোবাসা সেই মানুষকেই দেওয়া যায়, যাকে মন থেকে সম্মান করা যায়।

২. বিপদের সময় সান্ত্বনা ও অভয় দিয়ে স্বামীর পাশে ছিলেন

হেরা গুহায় প্রথমবার ওহী নাজিলের পর মহানবী (সা.) যখন আতঙ্কিত অবস্থায় খাদিজা (রা.)-এর কাছে গেলেন, তখন তিনি স্বামীকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। নবীজি যখন নিজের জন্য আশঙ্কা করছিলেন, খাদিজা (রা.) দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন: "এমনটা হতে পারে না। আপনি আনন্দিত হোন। আল্লাহ কখনো আপনাকে বিপদে ফেলবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, সত্য কথা বলেন, মানুষের দায়িত্ব বহন করেন, অসহায়দের সাহায্য করেন, অতিথি আপ্যায়ন করেন এবং বিপদাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।

শিক্ষা: এই ঘটনা শিক্ষা দেয় যে একজন স্ত্রী হতে পারে স্বামীর সবচেয়ে বড় মানসিক ভরসা এবং কঠিন সময়ে তার দৃঢ় আশ্বাস।

৩. প্রজ্ঞাসম্পন্ন পরামর্শদাতা ছিলেন

শুধু সান্ত্বনা দিয়েই খাদিজা (রা.) থেমে যাননি। সমাধানের জন্য তিনি নবীজিকে জ্ঞানী ও ধর্মশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ওয়ারাকা ইবন নওফেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওয়ারাকা পুরো ঘটনা শুনে বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের আভাস দিয়েছিলেন।শিক্ষা: একজন স্ত্রী হিসেবে জ্ঞানসমৃদ্ধ হওয়া জরুরি, যেন তিনি ইসলাম, সমাজ ও চলমান বিষয়ে স্বামীকে বুদ্ধিদীপ্ত ও বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন পরামর্শ দিতে পারেন।

৪. স্বামীর পাশে ছিলেন শক্ত দেয়ালের মতো

মহানবী (সা.) খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বলেছেন: "যখন সবাই অবিশ্বাসী ছিলো, তখন তিনি আমার প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। অন্যরা আমাকে সম্পদ দেয়নি, অথচ তিনি তার সব সম্পদ আমাকে দিয়েছেন।" ওহী নাজিলের পর নবীজি (সা.)-এর কষ্টের দিনগুলোতে, যখন তাকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং অনাহারে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল, সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতেও খাদিজা (রা.) কখনো পিছিয়ে যাননি।

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি নবীজির শক্ত স্তম্ভ হয়ে পাশে ছিলেন।শিক্ষা: স্বামীর প্রতি আস্থা রাখা, গুজবে কান না দেওয়া, এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকা খাদিজা (রা.)-এর জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। স্ত্রী হিসেবে পৃথিবী স্বামীর বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও সমর্থন দিয়ে যাওয়া উচিত।