ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১১:০৪ এএম
জীবনের প্রয়োজনের মুহূর্তে মানুষকে বিভিন্ন সময় ঋণ বা ধার করতে হয়। অনেক সময় সেই দেনা শোধ করা ঋণগ্রহীতার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, যা মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তোলে। তাই ঋণ থেকে মুক্তি পেতে এবং তা সহজে পরিশোধ করতে ইসলাম ধর্মে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দোয়ার ওপর।
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে রাসুল (সা.) উম্মতদের আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করার জন্য বলেছেন।হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আলী বিন আবু তালিব (রা.)-এর কাছে এক চুক্তিবদ্ধ দাস এসে বলল, "আমি চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েছি।
আপনি আমাকে সহযোগিতা করুন।" তখন তিনি তাকে বলেছিলেন, "আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না, যা রাসুল (সা.) আমাকে শিখিয়েছেন?
যদি তোমার ওপর পাহাড় পরিমাণ ঋণও থাকে, আল্লাহ তা তোমার পক্ষ থেকে শোধ করবেন।" অতঃপর তিনি এই বিশেষ দোয়াটি শিখিয়ে দেন।পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী, একজন মুসলমানের উচিত সব সময় আল্লাহ তাআলার কাছে হালাল রিজিক ও উত্তম জীবনযাপনের জন্য প্রার্থনা করা। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে এবং হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থাকার জন্য রাসুল (সা.) এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। দোয়াটি নিম্নরূপ:
{اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِك عَمَّنْ سِوَاكَ}
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক’।
অর্থ: "হে আল্লাহ, আপনি আপনার হালালের মাধ্যমে আমাকে পরিতুষ্ট করে হারাম থেকে বিরত রাখুন এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করুন।"
এই দোয়ার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে হালাল উপার্জনের বরকত এবং অন্য মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করে। ইসলামী চিন্তাবিদগণ বলেন, ঋণ মুক্তির জন্য কেবল দোয়া করাই যথেষ্ট নয়, বরং যথাসময়ে ঋণ পরিশোধের আন্তরিক চেষ্টা করা এবং ঋণের বোঝা না বাড়ানোর বিষয়েও সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন