ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
রমজান মাসে রোজা পালন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের বিধান নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে। ইসলামী শরিয়ত এ বিষয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন যে রোজার রাতে স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে।
এই আয়াতের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার হয় যে সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ বৈধ। অর্থাৎ ইফতারের পর থেকে সাহরির সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সময়টুকু ইসলামে অনুমোদিত।
তবে দিনের বেলা অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখা অবস্থায় সহবাস করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। যদি কেউ রোজা থাকা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাসে লিপ্ত হয় তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে কেবল কাজা আদায় করলেই হয় না বরং কঠোর শাস্তিস্বরূপ কাফফারাও আদায় করতে হয়।
অর্থাৎ একটি রোজার পরিবর্তে টানা ৬০টি রোজা রাখা বা সমপরিমাণ মিসকিনকে খাওয়ানোর বিধান রয়েছে। তাই রোজার পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলায় সব ধরনের যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুমিনের জন্য ফরজ।সহবাসের ফলে গোসল ফরজ হওয়া সংক্রান্ত বিষয়েও নবিজির সুন্নাহ থেকে সঠিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। যদি কেউ রাতের শেষভাগে সহবাস করার পর গোসল করার আগেই সুবহে সাদিক হয়ে যায় তবে তার রোজা সহিহ হবে।
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ও উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো জুনুব বা নাপাকি অবস্থায় ফজরের সময় পেতেন এবং পরে গোসল করে রোজা পূর্ণ করতেন। তবে ইবাদতের শুদ্ধতা এবং সময়মতো ফজরের নামাজ আদায়ের খাতিরে দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করা এবং অলসতা না করা একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব। মূলত ইবাদতের পবিত্রতা রক্ষা ও মহান আল্লাহর হুকুম যথাযথভাবে পালন করাই রোজার মূল লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন