মে ১৫, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
কোরবানির পশুর গলায় ছুরি চালানোর আগে যদি পশুটি মারা যায়, তবে সেই কোরবানি আদায় হবে না। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, হালাল প্রাণী ভক্ষণের জন্য জীবিত অবস্থায় জবাই হওয়া একটি বাধ্যতামূলক শর্ত। পবিত্র কুরআনের সুরা মায়েদায় আল্লাহ তাআলা মৃত প্রাণীকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাই যদি কোনো পশু হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বা অন্য কোনো কারণে ছুরি চালানোর আগেই নিথর হয়ে যায়, তবে তার গোশত খাওয়া জায়েজ হবে না।
মৃত পশুর গোশত খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ।পশুটি জবাইয়ের সময় জীবিত ছিল কি না, তা বোঝার জন্য ফকিহরা কিছু লক্ষণের কথা উল্লেখ করেছেন। জবাইয়ের পর রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক গতি এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে স্পন্দন বা নড়াচড়া দেখে প্রাণের অস্তিত্ব বোঝা যায়।
একে ফিকহের ভাষায় ‘ইদতিরাব’ বলা হয়। যদি পশুর মধ্যে প্রাণের সামান্যতম লক্ষণও অবশিষ্ট থাকে এবং ওই অবস্থায় দ্রুত জবাই সম্পন্ন হয়, তবেই সেই পশু হালাল হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় পশুটি ‘মৃত জন্তু’ হিসেবে গণ্য হবে এবং কোরবানি সহিহ হবে না।
পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, অতিরিক্ত ভয় বা প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক সময় পশুর ‘স্ট্রেস-ইনডিউসড কার্ডিয়াক ফেলিওর’ হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) পশুকে শোয়ানোর আগেই ছুরি ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সে আতঙ্কিত না হয়। সহিহ মুসলিমের হাদিসে বলা হয়েছে, জবাই করার সময় পশুকে কষ্ট কম দিতে হবে এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। পশুর ওপর অমানবিক আচরণ অনেক সময় তার অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন ধর্মীয়ভাবেও নিষিদ্ধ।
কোরবানির সময় পশুকে শান্ত রাখা এবং সরাসরি রোদে না রাখা অত্যন্ত জরুরি। এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা বা ধারহীন ছুরি ব্যবহার করা ইসলামের শিক্ষার সরাসরি পরিপন্থী। কোনো কারণে পশুর অবস্থা গুরুতর মনে হলে এবং সন্দেহ তৈরি হলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতা ও পশুর প্রতি মমত্ববোধের মাধ্যমেই এই মহান ইবাদত সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন