মে ১৮, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে কোরবানিদাতার করণীয় আমল নিয়ে ইসলামে বিশেষ কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র এই মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোর ইবাদতকে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় ও সর্বোত্তম বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষ করে যারা কোরবানি দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন, জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে पशु জবাই সম্পন্ন করা পর্যন্ত তাদের নিজেদের নখ, চুল বা শরীরের কোনো অংশের পশম না কাটা সুন্নাহ।
ইসলামী ফকিহদের মতে এই নির্দেশনা মূলত কোরবানির মূল মালিকের জন্য প্রযোজ্য হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।এর পাশাপাশি জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হয়।
বিশেষ করে ৯ জিলহজ অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ করে দেয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তবে হজে অবস্থানকারী হাজিদের জন্য আরাফার ময়দানে এই রোজা না রাখাই সুন্নাহ সম্মত নিয়ম।
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি জিকির করার পাশাপাশি ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ সালাতের পর একবার তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব।পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কোরবানিদাতার করণীয় আমল হলো ঈদের সালাতের আগে কিছু না খেয়ে থাকা এবং সালাত শেষে নিজের কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার গ্রহণ করা। সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য ১০ জিলহজ পশুর রক্ত প্রবাহিত করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত। যদি কেউ ভুলে জিলহজ মাসে নখ বা চুল কেটে ফেলেন, তবে তার কোরবানির কোনো ক্ষতি হবে না এবং এর জন্য কোনো কাফফারা দিতে হবে না।
যারা সামর্থ্যের অভাবে কোরবানি দিতে পারছেন না, তারাও এই দিনগুলোতে নখ-চুল না কেটে ঈদের দিন কাটলে পূর্ণ কোরবানির সওয়াব পাবেন।কোরবানির জন্য নির্ধারিত বড় পশু যেমন গরু, মহিষ বা উটের ক্ষেত্রে কোরবানির অংশের সাথে আকিকার অংশ দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ বলে ফকিহগণ জানিয়েছেন। জিলহজের এই প্রথম ১০ দিন মূলত মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদতের বসন্তকাল, যা জিকির ও বিশুদ্ধ নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন