জুন ১২, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
জুমাবার মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। একে সপ্তাহের ঈদের দিন বলা হয়। নবী মুহাম্মদ এই দিনের শ্রেষ্ঠত্ব ও জুমাবারের আমল সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে তুলে ধরেছেন। বোখারি শরিফে আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, সূর্যোদয় হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবার সর্বোত্তম।এই দিনেই হজরত আদমকে সৃষ্টি করে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়েছিল।
হজরত আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির থেকে বর্ণিত হাদিসে জুমার দিন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাঁচটি কারণ রয়েছে। আল্লাহ এই দিনে হজরত আদমকে সৃষ্টি করেছেন এবং জমিনে অবতরণ করিয়েছেন। এই দিনেই তাকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এমন একটি সময় আছে যখন হারাম কিছু ছাড়া বান্দার যেকোনো প্রার্থনা কবুল করা হয়। তাছাড়া এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে বলে ইবনে মাজাহ গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
জুমার দিন নির্দিষ্ট পাঁচটি কাজ করলে জান্নাতবাসী হওয়ার কথা বলা হয়েছে।মুসলিম শরিফে আবু সাঈদ খুদরি বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এই পাঁচটি কাজ হলো রোগীর সেবাযত্ন করা, জানাজায় অংশ নেওয়া, রোজা রাখা, জুমার নামাজ আদায় করা এবং দাসমুক্ত করা। জুমার নামাজ থাকায় এই পাঁচটি কাজ শুধু শুক্রবারেই একসঙ্গে করা সম্ভব।
জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে সবার আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ সওয়াব রয়েছে। আউস বিন আউস সাকাফি জানিয়েছেন, গোসলের পর দ্রুত মসজিদে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনলে প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়। বোখারি শরিফের অন্য একটি হাদিসে মসজিদে প্রবেশের সময়ের ওপর ভিত্তি করে সওয়াবের স্তর ভাগ করা হয়েছে। প্রথমে মসজিদে গেলে উট কোরবানির সওয়াব মেলে। এরপর ক্রমান্বয়ে গরু, ছাগল, মুরগি কোরবানি এবং শেষে ডিম সদকা করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। ইমাম খুতবার জন্য এলে ফেরেশতারা আলোচনা শোনা শুরু করেন।
জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করার অন্যতম ফজিলত রয়েছে। আবু সাইদ খুদরি জানিয়েছেন, এই সুরা পড়লে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত থাকে এবং শেষ ১০ আয়াত পাঠকারী দাজ্জালের ক্ষতি থেকে রক্ষা পান। অজুর পর নির্দিষ্ট দোয়া পড়লে তার নাম একটি চিঠিতে লিখে সিল দেওয়া হয়, যা কিয়ামত পর্যন্ত ভাঙা হয় না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন