রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কোরআনের বাণী

যেখানে বুদ্ধিমানরা আলো পায়, কুটিলরা দিক হারায়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১০:৩৭ এএম

যেখানে বুদ্ধিমানরা আলো পায়, কুটিলরা দিক হারায়

পবিত্র কোরআনুল কারিমকে আল্লাহ তায়ালা এমন এক নিদর্শন হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যা মানুষের বোধ ও জ্ঞানের স্তর অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কোরআনের বাণীর মাধ্যমে একদিকে যেমন বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী সম্প্রদায় সত্যের আলো খুঁজে পান, তেমনি অন্যদিকে কুটিল মানসিকতার অবিশ্বাসীরা বিভ্রান্তি ও সন্দেহের অন্ধকারে দিক হারায়। এই গভীর বিষয়টি সুরা আনআমের ১০৫ নম্বর আয়াতে বিশদভাবে বিবৃত করা হয়েছে।

পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সুরা আনআমের ১০৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: ‘আর এভাবে আমি নিদর্শনাবলী বিভিন্ন প্রকারে বিবৃত করি। যাতে অবিশ্বাসীরা বলে, ‘তুমি এ (পূর্ববর্তী কিতাব) অধ্যয়ন করে বলছ’ এবং যাতে আমি তা জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করি।’

ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোরআনের আয়াতসমূহকে নানাভাবে, বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ও বিশদভাবে বর্ণনা করেন। এর একটি উদ্দেশ্য হলো, অবিশ্বাসীদের অন্তরের রোগ প্রকাশ করে দেওয়া। কাফিররা মনে করত, মহানবী (সা.) নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও যে গভীর দার্শনিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অলঙ্কারপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করছেন, তা তিনি নিশ্চয়ই অন্য কারো কাছ থেকে অধ্যয়ন করে বা শিখে এসে বলছেন।

জগতের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকরাও যখন এই বাণীর সমতুল্য কালাম রচনায় অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন, তখন অবিশ্বাসীদের জন্য এটিই ঈমান আনার বড় প্রমাণ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোরআনের ভাষ্যমতে, অন্তর বিনষ্ট হওয়ার কারণে তারা সেই সৌভাগ্য লাভ করেনি, বরং তারা ঠাট্টা ও সন্দেহের পথ বেছে নেয়।

আয়াতের দ্বিতীয় অংশে আল্লাহ তায়ালা এই বিশদ বর্ণনার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। তা হলো, ‘যাতে আমি তা জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিবৃত করি।’ এখানে ‘জ্ঞানী সম্প্রদায়’ বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে, যারা সত্যকে জানতে চায়, বুঝতে চায় এবং গ্রহণ করতে চায়। মুফাসসিরদের মতে, এরা হলেন মুমিনগণ, যারা মহানবী (সা.) এবং তার ওপর যা নাজিল হয়েছে, তার ওপর পরিপূর্ণ ঈমান আনয়ন করেছেন।

আল্লাহর বর্ণন দ্বারা এই জ্ঞানীরাই হক বা সত্যকে জানতে পারেন, গ্রহণ করেন এবং তা অনুসরণ করতে সক্ষম হন। মূলত, হেদায়েত বা পথপ্রদর্শনের সব সরঞ্জাম আল্লাহ তায়ালা সবার সামনেই রেখেছেন। কিন্তু একই উৎস থেকে কুটিল ব্যক্তিরা উপকৃত হতে পারে না, পক্ষান্তরে সুস্থ ও সঠিক বুদ্ধিসম্পন্ন জ্ঞানীরা এর মাধ্যমে সত্যের চূড়ান্ত পথ খুঁজে পান।