সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

সংকটাপন্ন শাপুর জাদরান, ভরসা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৮:২২ পিএম

সংকটাপন্ন শাপুর জাদরান, ভরসা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা

সংকটাপন্ন শাপুর জাদরান

আফগানিস্তানের ক্রিকেটে গতির ঝড় তোলা সাবেক পেসার শাপুর জাদরান বর্তমানে জীবনের এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এতটাই আশঙ্কাজনক যে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞ দলটি এখন পর্যন্ত তার পরিবারকে নির্দিষ্ট কোনো আশার বাণী শোনাতে পারছেন না। 

এই খবরটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাপুর জাদরানের শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তার রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ অত্যন্ত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, যা সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেঙে ফেলে। কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাদরানের অসুস্থ অবস্থার একটি ছবি তার ভাই প্রকাশ করার পর থেকেই ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।শাপুর জাদরানের এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহিদ আফ্রিদি এবং সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটার কামরান আকমল সামাজিক মাধ্যমে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিয়েছেন। কামরান আকমল জাদরানকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

অন্যদিকে শহিদ আফ্রিদি জানিয়েছেন যে জাদরানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছেন এবং এমন খবরে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শাপুর জাদরানের অভিষেক ঘটেছিল ২০০৯ সালে। প্রায় এক দশক ধরে তিনি আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার শিকার ৮০টি উইকেট হলেও উইকেটের সংখ্যার চেয়েও তার বলের গতি এবং আগ্রাসী ভঙ্গি প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের কাছে ভয়ের কারণ ছিল।

 বিশেষ করে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স আফগান ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এক সময় মাঠ কাঁপানো সেই গতিময় বোলার আজ হাসপাতালের বিছানায় জীবনের চূড়ান্ত বাস্তবতার মুখোমুখি। ক্রিকেট বিশ্বের অগণিত সমর্থক ও সতীর্থরা এখন এই প্রিয় তারকার ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রার্থনা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টা তার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।