এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের ক্রিকেটীয় কাঠামোতে পরিবর্তনের এক নতুন ভিশন নিয়ে কাজ করছেন তামিম ইকবাল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান মজবুত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তামিম মনে করেন, জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব আর ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ পদের দায়িত্বের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে কেবল মাঠের খেলা নিয়ে ভাবলেও, সভাপতির চেয়ারে বসে এখন তাঁকে পুরো ক্রিকেট কাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল স্পষ্ট করেছেন যে, বোর্ড প্রধানের পদে থেকে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ড্রেসিংরুমে দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তামিমের মতে, আধুনিক ক্রিকেটাররা কী চান এবং বোর্ডের কাছ থেকে তাঁদের প্রত্যাশা ঠিক কতটুকু, তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। অতীতে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে যে মানসিক দূরত্বের অভিযোগ ছিল, তা কমিয়ে আনাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি চান এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে যেখানে ক্রিকেটাররা নিজেদের নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করবেন।বিসিবি সভাপতির পাশাপাশি এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পরিমণ্ডলেও নিজের প্রভাব ও যোগাযোগ বাড়াতে চান তামিম ইকবাল।
তিনি জানিয়েছেন, আইসিসি এবং অন্যান্য শক্তিশালী ক্রিকেট বোর্ডগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেখানে পৌঁছাতে চায়, সেই যাত্রায় প্রতিটি দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন আদায় করাকে তিনি একটি `বৃহৎ পরিবার`-এর মতো দেখছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো যৌক্তিকভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা, যাতে বড় দেশগুলো কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
মাঠের ক্রিকেটের বাইরে দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তামিম। স্টেডিয়ামে খাবারের উচ্চমূল্য এবং নিম্নমানের অবকাঠামো নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। ২০০ টাকার টিকিট কিনে আসা একজন দর্শক কেন ২৫০ টাকার খাবার কিনবেন—এই প্রশ্ন রেখে তিনি মিরপুর স্টেডিয়ামের সংস্কার, বিনামূল্যে পানি সরবরাহ এবং উন্নত টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। অবকাঠামোগত এই পরিবর্তনগুলো ছোট মনে হলেও দর্শকদের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নারী ক্রিকেট নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিসিবির এই সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি। তামিমের মতে, মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বর্তমানে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি বিষয়। অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ ও আস্থাশীল পরিবেশ তৈরি করাই হবে তাঁর প্রথম কাজ। এ ছাড়া জাতীয় দলের কোচ ও নির্বাচকদের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে তাঁদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পেশাদার সুযোগ দিতে চান তিনি। সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সামনে নিয়ে আসা এবং ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করতে একটি আধুনিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই এখন তামিম ইকবালের প্রধান চ্যালেঞ্জ।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন