জুন ২৩, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচে গ্যালারিতে লেন্স ঘুরতেই লাখো দর্শকের নজর কেড়েছেন নীল-সাদা জার্সি পরা এক শতবর্ষী নারী। তাঁর হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল যে তাঁর বয়স ১০০ বছর এবং তিনি লিওনেল মেসির একজন বড় ভক্ত। ফুটবল জাদুকরের বিশ্বরেকর্ড গড়ার ঐতিহাসিক রাতে এই কয়েকটি শব্দই পুরো ক্রীড়াবিশ্বে এক ভিন্ন আবেগের জন্ম দিয়েছে। মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি এই বৃদ্ধার পরিচয় নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা।এই শতবর্ষী ভক্তের আসল নাম পলিন কানা।
ইন্টারনেট দুনিয়ায় তিনি ‘গ্র্যানি স্মিথ’ কিংবা ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা এই নারী তাঁর নাতি রস স্মিথের সাথে নিয়মিত মজার ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকা হয়ে উঠেছেন। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সেই বিশেষ মুহূর্তে তিনি কোনো পেশাদার ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন না, বরং ছিলেন শুধুই একজন খাঁটি মেসি-ভক্ত। এক শতাব্দীর সমান দীর্ঘ জীবনে তিনি পৃথিবীর বহু ঐতিহাসিক পরিবর্তন দেখলেও ফুটবলের প্রতি তাঁর এই শিশুসুলভ ভালোবাসা বিন্দুমাত্র কমেনি।
পলিন কানার এই ফুটবলপ্রেমের গল্প অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতেও তিনি লিওনেল মেসির খেলা দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন। ইন্টার মায়ামির একটি ম্যাচে তাঁর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল যে মেসি তাঁকে বিয়ে করবেন কি না। পরবর্তীতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচেও তিনি একই ধরনের ভালোবাসার বার্তা নিয়ে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন এবং প্রতিবারই তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
খেলার মাঠে গা গরম করার সময় দূর থেকে বিশ্বসেরা এই ফুটবলারও তাঁকে দেখে হাত নেড়েছিলেন এবং মৃদু হেসেছিলেন। দুই ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মধ্যে ভাষার কোনো সরাসরি আদান-প্রদান না হলেও কেবল একটি হাসিতেই গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সম্প্রতি এই প্রবীণ নারীকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ‘ক্রাউড সার্ফার’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ৯৯ বছর ২৭৪ দিন বয়সে একটি কনসার্টে দর্শকদের হাতের ওপর ভেসে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনি এই অনন্য রেকর্ড গড়েন।
আধুনিক যুগে বয়সকে যেখানে এক ধরণের সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা হয়, পলিন কানা যেন সেই প্রথার বিরুদ্ধে এক জীবন্ত প্রতিবাদ। তাঁর এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বয়স বাড়লেও প্রিয় কোনো মানুষের জন্য বিস্মিত বা উত্তেজিত হওয়ার অধিকার হারিয়ে যায় না। মানুষের হৃদয়ে যখন কোনো অকৃত্রিম ভালোবাসা জায়গা করে নেয়, তখন একশত বছরও কেবল একটি সাধারণ সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন