জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, দুই পরাশক্তির ফুটবলীয় দ্বৈরথ খুবই সীমিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দল দুটি এ পর্যন্ত মাত্র দুইবার মুখোমুখি লড়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনা জিতেছে একটি ম্যাচে এবং অন্যটি ড্র হয়েছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মিশরকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপের নকআউটের মতো বড় মঞ্চে এই দুই দল সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামবে।
চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত ফর্মে থেকে নকআউটে পা রেখেছে। তবে শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে তাদের বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ড্র হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোলের কল্যাণে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় জয় পায় তারা। এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা তাদের টানা আট ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখল এবং প্রতি ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ড ধরে রেখেছে।
দলের পরিকল্পনা ও কৌশলের দিক থেকে মিশরের জন্য ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তারা এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর পেনাল্টি শুটআউটে জয়লাভ করে শেষ ১৬ নিশ্চিত করে ফারাওরা। সাম্প্রতিক ছয়টি ম্যাচে তাদের ঝুলিতে রয়েছে দুইটি জয়, তিনটি ড্র ও একটি পরাজয়।
পরিসংখ্যানের নিরিখে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রভাবশালী। গত ছয় ম্যাচে তারা মোট ১৪টি গোল করেছে, যার বিপরীতে গোল充ছদ করেছে মাত্র দুইটি। তাদের প্রতি ম্যাচে গোল করার গড় ২ দশমিক ৩৩ এবং গোল হজমের গড় মাত্র ০ দশমিক ৩৩। অন্যদিকে মিশর তাদের শেষ ম্যাচে ৮টি গোল করার পাশাপাশি ৬টি গোল হজম করেছে, যা তাদের রক্ষণভাগের কিছুটা দুর্বলতা প্রকাশ করে।
খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত রেটিং ও দক্ষতার দিক থেকেও ল্যাটিন আমেরিকার দলটি অনেক এগিয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের গতি যেকোনো রক্ষণব্যূহের জন্য বড় হুমকি। তবে মিশরীয়রা কাউন্টার অ্যাটাক ও গতিশীল ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন ডিফেন্সকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ এবং মিশরের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ ধরা হয়েছে, আর বাকি ২০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর।আটলান্টার এই ঐতিহাসিক মাঠে যে দলই জয়ী হবে তারা সরাসরি পৌঁছে যাবে শেষ আটে। আর পরাজিত দলের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এখানেই থমকে যাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন